ডিম্বাশয়ে সিস্ট মানে হচ্ছে তরলভর্তি ছোট ছোট থলি, যা ডিম্বাশয়ের ভেতরে বা চারপাশে তৈরি হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সিস্ট ক্ষতিকারক নয় এবং অনেক সময় নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে কিছু ধরনের সিস্ট অস্বস্তিকর উপসর্গ তৈরি করতে পারে। ডিম্বাশয়ের সিস্টের লক্ষণগুলো শুরুতেই বুঝতে পারলে সিস্ট ফেটে যাওয়া (rupture) বা ডিম্বাশয় পেঁচিয়ে যাওয়ার (torsion) মতো জটিলতা কমানোর সুযোগ থাকে, কারণ তখনই দ্রুত গাইনোকলজিস্টের কাছে যাওয়া যায়। এই আর্টিকেলে ডিম্বাশয়ের সিস্টের সাধারণ, তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায় এমন, এবং জরুরি চিকিৎসা দরকার হয় এমন উপসর্গগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে সিস্ট ফেটে যাওয়ার লক্ষণ, ডার্ময়েড সিস্টের লক্ষণ, ও রক্তক্ষরণজনিত (hemorrhagic) সিস্টের লক্ষণ ইত্যাদি।
প্রজননক্ষম বয়সী অনেক নারীর মধ্যেই ডিম্বাশয়ের সিস্ট দেখা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি মাসিক চক্রের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার ফল। ডিম্বাশয়ের সিস্টের একাধিক ধরন আছে; বেশিরভাগ সিস্ট ব্যথাহীন ও অক্ষতিকর (benign)। তবে কিছু সিস্ট অনেক বড় আকার ধারণ করতে পারে, ফেটে যেতে পারে, বা ডিম্বাশয়কে পেঁচিয়ে দিতে পারে যেগুলো আলাদা স্বাস্থ্যসমস্যা তৈরি করে। মেনোপজ হওয়ার আগে নারীদের মধ্যে ডিম্বাশয়ের সিস্ট খুবই সাধারণ।
ডিম্বাশয়ের সিস্টের সম্ভাব্য লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকলে নিজের প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। অনেক সময় হালকা পেট ব্যথা বা ফাঁপা ভাবকে আমরা পিরিয়ডের আগে হওয়া স্বাভাবিক অস্বস্তি বলে ভাবি; কিন্তু হঠাৎ শুরু হওয়া মাঝারি থেকে তীব্র পেট ব্যথা, বা অস্বাভাবিক রক্তপাত অবহেলা করা উচিত নয়। এমন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ডিম্বাশয়ের সিস্ট নিয়ন্ত্রণ ও জটিলতা প্রতিরোধের সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
বেশিরভাগ ডিম্বাশয়ের সিস্ট ছোট, অক্ষতিকর (benign) এবং কোনো উপসর্গই দেয় না। ছোট আকারের জন্য এগুলো অনেক সময় ধরা পর্যন্ত পড়ে না; প্রায়ই অন্য কোনো পরীক্ষার সময় হঠাৎ ধরা পড়ে। সাধারণত সিস্ট বড় হতে শুরু করলে বা আশপাশের অঙ্গগুলোর ওপর চাপ পড়লে উপসর্গ দেখা দেয়।
ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকলে যেসব সাধারণ লক্ষণ দেখা যেতে পারে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে –
কিছু ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়ের সিস্টের কারণে পুরো ডিম্বাশয় পেঁচিয়ে যেতে পারে (ovarian torsion)। তখন হঠাৎ করে তীব্র পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব, বারবার বমি এবং খুব বেশি অস্বস্তি শুরু হয় – যা মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি। আবার কোনো সিস্ট ফেটে গেলে পেটের ভেতরে রক্তক্ষরণ, তীব্র পেট ব্যথা ও মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে, যেগুলোর জন্যও তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা দরকার।
যদিও বেশিরভাগ ডিম্বাশয়ের সিস্ট কোনো লক্ষণ ছাড়াই থাকে, তবু এই সতর্কসংকেতগুলো চিনতে পারলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া যায় এবং জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।
অনেক ডিম্বাশয়ের সিস্ট তেমন কোনো সমস্যা তৈরি না করলেও, সিস্ট ফেটে গেলে তা খুবই মারাত্মক অবস্থা তৈরি করতে পারে এবং তা মেডিক্যাল ইমার্জেন্সিতে পরিণত হতে পারে। সিস্ট ফেটে গেলে পেটের ভেতরে রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে, যার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। তাই আগে থেকেই লক্ষণগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে দেরি না করে সাহায্য নেওয়া সহজ হয়।
নিম্নলিখিত উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান বা নিকটস্থ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে যোগাযোগ করুনঃ
ফেটে যাওয়া ডিম্বাশয়ের সিস্টের লক্ষণ উপেক্ষা করলে তা জীবনঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়, কারণ সময়মতো চিকিৎসা অনেক সময় জীবন বাঁচাতে পারে।
বেশিরভাগ ডিম্বাশয়ের সিস্ট ছোট, অক্ষতিকর (benign) এবং কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। আকার খুব ছোট থাকার কারণে এগুলো সাধারণত ধরা পড়ে না; অনেক সময় অন্য কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে হঠাৎ ধরা পড়ে। সাধারণত সিস্ট বড় হতে শুরু করলে বা আশপাশের অঙ্গগুলোর ওপর চাপ পড়লে লক্ষণ দেখা দিতে থাকে।
ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকলে যেসব সাধারণ উপসর্গ দেখা যেতে পারে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
কিছু ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়ের সিস্টের কারণে ডিম্বাশয় পেঁচিয়ে যেতে পারে, যাকে ovarian torsion বলা হয়। তখন হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, বারবার বমি এবং খুব বেশি অস্বস্তি শুরু হয়, এটি একটি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি।
আবার কোনো সিস্ট ফেটে গেলে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, পেটের ভেতরে রক্তক্ষরণ, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
যদিও বেশিরভাগ সিস্টে কোনো উপসর্গ থাকে না, তবুও এই সতর্ক লক্ষণগুলো চিনে রাখা খুব দরকার, যাতে সময়মতো চিকিৎসা নিয়ে জটিলতা এড়ানো যায়।
যেহেতু অনেক ডিম্বাশয়ের সিস্ট তেমন সমস্যা করে না, অনেকেই এগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন না। কিন্তু কোনো সিস্ট ফেটে গেলে তা গুরুতর অবস্থা তৈরি করতে পারে এবং অনেক সময় জীবনঝুঁকিও তৈরি হয়। সিস্ট ফেটে গেলে পেটের ভেতরে রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, তীব্র ব্যথা ও অন্য জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেগুলোর জন্য দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। সতর্ক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জানা থাকলে দেরি না করে চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়।
নিম্নলিখিত উপসর্গ থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিনঃ
ফেটে যাওয়া ডিম্বাশয়ের সিস্টের লক্ষণ উপেক্ষা করলে তা মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের কাছে যাওয়া ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চিকিৎসা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ সময়মতো চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রে জীবন বাঁচাতে পারে।
কিছু উপসর্গ সব সময় থাকে না, কিন্তু থাকলে ডিম্বাশয়ে সিস্টের ইঙ্গিত দিতে পারে। যেমন –
এই উপসর্গগুলোর অনেকগুলোই অন্য গাইনোকোলজিক সমস্যার সাথেও মিল থাকতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা খুবই জরুরি।
নিম্নলিখিত কোনো ডিম্বাশয়ের সিস্ট সম্পর্কিত উপসর্গ যদি বারবার দেখা যায়, দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়, বা জটিলতার ইঙ্গিত দেয়, তাহলে দেরি না করে গাইনোকোলজিস্টের কাছে যাওয়া উচিত –
এসব লক্ষণকে হালকা ভাবে না নিয়ে, সময়মতো চিকিৎসকের কাছে গেলে সিস্টজনিত সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা ও বড় জটিলতা এড়ানো অনেক সহজ হয়ে যায়।
বেশিরভাগ নারীর জীবনে কোনো না কোনো সময় ডিম্বাশয়ে সিস্ট হয়, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো সাধারণ ও নিরীহ। তবুও সিস্ট থেকে কী কী লক্ষণ হতে পারে, তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। হালকা পেলভিক ব্যথা, অনিয়মিত রক্তপাত থেকে শুরু করে সিস্ট ফেটে যাওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতি এ সব ক্ষেত্রে সময়মতো গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিলে বড় জটিলতা অনেকটাই এড়ানো যায়।
ইন্দিরা আইভিএফ এ (Indira IVF) ডিম্বাশয়ের সিস্ট শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত ফলো-আপ ও ডাক্তারের পরামর্শ নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য ও সার্বিক সুস্থতা দুটোকেই সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
হালকা তলপেট ব্যথা, পেলভিক এলাকায় চাপ বা ফাঁপা ভাব, মাঝে মাঝে পিঠে ব্যথা, বা মাসিক একটু অনিয়মিত হওয়া এগুলো প্রথম দিকের লক্ষণ হতে পারে। তবে নিশ্চিত হতে আল্ট্রাসাউন্ডসহ ডাক্তারের মূল্যায়ন দরকার।
হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, কখনও বমি ও জ্বর, এবং পেট শক্ত বা খুব টাইট লাগা এগুলো সিস্ট ফেটে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
হ্যাঁ, কিছু সিস্ট বড় হলে বা আশপাশের টিস্যুতে চাপ দিলে কোমর বা নীচের পিঠ পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে যেতে পারে। তবে অন্য কারণেও পিঠে ব্যথা হতে পারে, তাই ডাক্তারের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
হ্যাঁ, সিস্টের ধরন ও হরমোনের প্রভাবে পিরিয়ড দেরিতে হওয়া, বেশি রক্তপাত হওয়া বা মাঝে মাঝে স্পটিং হতে পারে। সব ক্ষেত্রে এমন নাও হতে পারে, তাই পরীক্ষা করে দেখা ভালো।
ডার্ময়েড সিস্ট অনেক সময় দীর্ঘদিন উপসর্গহীন থাকে। বড় হলে তলপেটে ভারী ভাব, ব্যথা, বা পেলভিক এলাকায় গিঁট–জাতীয় কিছু অনুভূত হতে পারে; কখনও টর্শন বা rupture হলে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হয়।
যখন ব্যথা হঠাৎ খুব তীব্র হয়, দীর্ঘসময় থাকে, হাঁটা–চলা বা স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা দেয়, সঙ্গে বমি, জ্বর, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকে তখন দেরি না করে ইমার্জেন্সি কেয়ার নেয়া উচিত।
কিছু সিস্ট যেমন এন্ডোমেট্রিওটিক সিস্ট বা পলিসিস্টিক ওভারি (PCOS) ডিম্বস্ফোটন বা ডিম্বাশয়ের ফাংশনে প্রভাব ফেলে, ফলে গর্ভধারণ কঠিন হতে পারে। তবে সব সিস্টে বন্ধ্যাত্ব হয় না; সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা নিলে অনেকেই গর্ভধারণ করতে পারেন।
এই ধরনের সিস্টে সিস্টের ভেতরে রক্ত জমে, ফলে একদিকে তীব্র বা টান ধরার মতো ব্যথা, পিরিয়ডের সময় বাড়তি ব্যথা, কখনও পেলভিক এলাকায় ভারী ভাব ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। সঠিক তথ্যের জন্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রয়োজন।
লক্ষণগুলো সাধারণত সিস্টের আকার, অবস্থান ও ধরন সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয় যেমন চাপজনিত ব্যথা মানে সিস্ট বড় হয়েছে, হঠাৎ তীব্র ব্যথা মানে টর্শন বা rupture–এর ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে নিশ্চিত হওয়া যায় শুধুই শারীরিক পরীক্ষা ও ইমেজিং দিয়ে।
হ্যাঁ, উপসর্গের ধরণ ও তীব্রতা দেখে ডাক্তার সিদ্ধান্ত নেন সিস্ট পর্যবেক্ষণে রাখবেন, ওষুধ দেবেন নাকি সার্জারি প্রয়োজন। যেমন, ছোট ও উপসর্গহীন সিস্ট শুধু follow–up–এ থাকতে পারে, আর তীব্র ব্যথাযুক্ত বা জটিল সিস্টে দ্রুত চিকিৎসা বা অপারেশন দরকার হতে পারে।