Overview
Ovulation-এর বাংলা অর্থ ডিম্বস্ফোটন। সহজভাবে বললে, মাসিকচক্রের একটি সময়ে ডিম্বাশয় থেকে পরিণত ডিম্বাণু বেরিয়ে আসাকে ডিম্বস্ফোটন বলা হয়। এই সময়ের আশেপাশে শুক্রাণুর সঙ্গে ডিম্বাণুর মিলন হলে নিষেক হতে পারে এবং গর্ভধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ডিম্বস্ফোটন সবার একই দিনে হয় না; মাসিকচক্রের দৈর্ঘ্য ও শরীরের হরমোনের পরিবর্তনের ওপর এর সময় নির্ভর করে।
Ovulation Meaning in Bengali হল ডিম্বস্ফোটন। সহজ করে বললে, মাসিকচক্রের সময়ে ডিম্বাশয় থেকে একটি পরিণত ডিম্বাণু বেরিয়ে আসাকেই ওভুলেশন বলা হয়। এই ডিম্বাণু পরে ফ্যালোপিয়ান টিউবের দিকে যায় এবং সেই সময়ে শুক্রাণুর সঙ্গে ডিম্বাণুর মিলন হলে ফার্টিলাইসেশন হয়, যা গর্ভধারণের হওয়ার প্রথম ধাপ।
তবে সবার ওভুলেশন একই সময়ে হয় না। ২৮ দিনের মাসিকচক্র হলে অনেকের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ১৪তম দিনের আশেপাশে হতে পারে। এটি নির্ভর করে হর্মোনের পরিবর্তনের ওপর, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন ও অন্যান্য প্রজনন-সম্পর্কিত হরমোন ওপর। তাই শুধু মাসিকের তারিখ গুনে ওভুলেশনের দিন ঠিক করে নেওয়া সবসময় ঠিক নয়।
মাসিকচক্রের শুরুতে ফলিকল-উদ্দীপক হরমোন বা FSH-এর প্রভাবে ডিম্বাশয়ের কয়েকটি ফলিকল বড় হতে শুরু করে। সাধারণত একটি ফলিকল প্রাধান্য পায় এবং তার মধ্যে ডিম্বাণু পরিণত হয়। এরপর লিউটিনাইজিং হরমোন বা LH হঠাৎ বেড়ে গেলে সেই ফলিকল থেকে ডিম্বাণু বেরিয়ে আসে, এটাই ডিম্বস্ফোটন।
ডিম্বস্ফোটনের পর অবশিষ্ট ফলিকল থেকে প্রোজেস্টেরন তৈরি হয়। এই হরমোন জরায়ুর আস্তরণকে সম্ভাব্য গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত রাখতে সাহায্য করে। গর্ভধারণ না হলে হরমোনের মাত্রা কমে গিয়ে পরবর্তী মাসিক শুরু হয়।
শরীর নিজে থেকেই কিছু ইঙ্গিত দেয়, যেগুলো খেয়াল করলে ডিম্বস্ফোটনের সময়টা অনেকটাই বোঝা যায়:
শুধু ক্যালেন্ডার দেখে ডিম্বস্ফোটনের দিন নিশ্চিত করা যায় না। কয়েকটি পদ্ধতি একসঙ্গে দেখলে নিজের চক্র সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়।
মাসিকের হিসাব রাখা: কয়েক মাসের মাসিকের তারিখ লিখে রাখলে চক্রের দৈর্ঘ্য ও পরিবর্তন বোঝা যায়। তবে চক্র অনিয়মিত হলে এই হিসাবের ওপর একা নির্ভর করা ঠিক নয়।
স্রাবের পরিবর্তন লক্ষ্য করা: স্বচ্ছ, পিচ্ছিল ও টানটান স্রাব দেখা গেলে উর্বর সময় কাছাকাছি থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
মূত্রের LH পরীক্ষা: বাজারে পাওয়া ডিম্বস্ফোটন পরীক্ষায় প্রস্রাবে LH হরমোনের বাড়তি মাত্রা ধরা যায়। ফল পজিটিভ হলে সাধারণত পরবর্তী ১-২ দিনের মধ্যে ডিম্বস্ফোটন হতে পারে। তবে এই পরীক্ষা ডিম্বস্ফোটন হয়েছে, এমন নিশ্চিত প্রমাণ দেয় না।
চিকিৎসকের পরীক্ষা: প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময়ে রক্তে প্রোজেস্টেরন পরীক্ষা বা আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে ডিম্বস্ফোটন হয়েছে কি না মূল্যায়ন করা যায়।
গর্ভধারণের সঙ্গে ডিম্বস্ফোটনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কারণ ডিম্বস্ফোটনের সময় ডিম্বাশয় থেকে বের হওয়া ডিম্বাণু শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই এই সময়ের আশেপাশে সহবাস হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে শুধু ডিম্বস্ফোটন হলেই গর্ভধারণ হবে, এমন নয়। আরও কিছু প্রজনন-সংক্রান্ত বিষয়ও গর্ভধারণের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে।
গর্ভধারণের জন্য তাই শুধু “ডিম্বস্ফোটনের দিন”-এর উপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। ডিম্বস্ফোটনের আগের কয়েক দিনও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শুক্রাণু নারীর প্রজননপথে কয়েক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। অন্যদিকে, ডিম্বাণু ডিম্বস্ফোটনের পর তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ের জন্য নিষিক্ত হওয়ার উপযোগী থাকে। ফলে ডিম্বস্ফোটনের আগের দিনগুলিতে এবং ডিম্বস্ফোটনের কাছাকাছি সময়ে সহবাস হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
তবে নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন হওয়া সত্ত্বেও যদি দীর্ঘদিন গর্ভধারণ না হয়, তাহলে শুধু ডিম্বস্ফোটনকে কারণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। গর্ভধারণ একটি একক প্রক্রিয়ার ফল নয়, নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্য এতে ভূমিকা রাখে। তাই দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে দুজনেরই প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
ডিম্বস্ফোটন এক-দুদিন এগিয়ে বা পিছিয়ে যাওয়া সবসময় সমস্যার লক্ষণ নয়। কিন্তু বারবার মাসিক অনিয়মিত হলে, অনেকদিন মাসিক না হলে বা নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন না হলে এর পেছনে কোনও শারীরিক কারণ থাকতে পারে। সাধারণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে হরমোনের সমস্যা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, শরীরের ওজনের বড় পরিবর্তন, অতিরিক্ত শরীরচর্চা এবং PCOS।
ডিম্বস্ফোটনের জন্য মস্তিষ্ক, পিটুইটারি গ্রন্থি ও ডিম্বাশয়ের মধ্যে হরমোনের সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন। এই ব্যবস্থায় সমস্যা হলে ডিম্বাণু ঠিকমতো পরিণত নাও হতে পারে বা সময়মতো বেরিয়ে নাও আসতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা বা রক্তে প্রোল্যাক্টিনের মাত্রা বেড়ে গেলেও ডিম্বস্ফোটন ব্যাহত হতে পারে। কারণ বোঝার জন্য চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তপরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের সঙ্গে যদি পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়া, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত শরীরচর্চা যুক্ত হয়, তাহলে মস্তিষ্ক থেকে প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোনের স্বাভাবিক সংকেত কমে যেতে পারে। আবার অতিরিক্ত ওজনও কিছু মহিলার ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য ও ডিম্বস্ফোটনকে প্রভাবিত করতে পারে।
PCOS ডিম্বস্ফোটন অনিয়মিত হওয়ার অন্যতম পরিচিত কারণ। এই অবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ডিম্বাণু নিয়মিত পরিণত নাও হতে পারে। অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত লোম, ব্রণ বা গর্ভধারণে দেরি, এর কিছু লক্ষণ হতে পারে। তবে এগুলি থাকলেই PCOS হয়েছে, এমন নয়।
PCOS ছাড়াও এন্ডোমেট্রিওসিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতার পরিবর্তন ডিম্বস্ফোটনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বারবার সমস্যা হলে কারণটি পরীক্ষা করে দেখা জরুরি।
ডিম্বস্ফোটন না হলে ডিম্বাশয় থেকে পরিণত ডিম্বাণু বের হয় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে অ্যানোভুলেশন বলা হয়। বারবার এমন হলে গর্ভধারণ কঠিন হতে পারে, কারণ শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার মতো ডিম্বাণু সেই চক্রে থাকে না।
ডিম্বস্ফোটন না হলে সবসময় মাসিক বন্ধ থাকবে এমন নয়। কারও মাসিক দেরিতে হতে পারে, কারও কয়েক মাস পরপর হতে পারে। এমনকি মাসিকের মতো রক্তপাত হলেও সেটি নিয়মিত ডিম্বস্ফোটনের প্রমাণ নয়। তাই দীর্ঘদিন মাসিক অনিয়মিত হলে কারণটি চিকিৎসকের মাধ্যমে খুঁজে দেখা দরকার।
প্রয়োজনে ইন্দিরা আইভিএফ-এর বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা সম্পর্কিত তথ্য থেকে চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যেতে পারে।
নিচে উল্লেখিত পরিস্থিতিগুলিতে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার:
গর্ভধারণের চেষ্টা থাকলে বয়সও গুরুত্বপূর্ণ। ৩৫ বছরের কম বয়সে ১২ মাস নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পরও গর্ভধারণ না হলে এবং ৩৫ বছর বা তার বেশি হলে ৬ মাস চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সাধারণত সুপারিশ করা হয়। তবে মাসিক একেবারে না হলে বা ডিম্বস্ফোটনের সমস্যা স্পষ্টভাবে থাকলে এতদিন অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
ডিম্বস্ফোটন নিয়ে কিছু প্রচলিত ধারণা আছে, যেগুলো সবসময় ঠিক নয়।
১৪তম দিনটি একটি ২৮ দিনের নিয়মিত চক্রের আনুমানিক হিসাব। সবার মাসিক চক্রের দৈর্ঘ্য এক নয়, তাই ডিম্বস্ফোটনের সময়ও বদলাতে পারে।
ডিম্বস্ফোটনের আগের কয়েকদিনও গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে, কারণ শুক্রাণু নারীর প্রজননপথে কয়েকদিন বেঁচে থাকতে পারে। তাই শুধু ডিম্বাণু বের হওয়ার দিনটিকেই গুরুত্ব দেওয়া ঠিক নয়।
অনিয়মিত মাসিকের কারণ বিভিন্ন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসার মাধ্যমে ডিম্বস্ফোটন নিয়মিত করা এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব। তাই কারণ না জেনে ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে গর্ভধারণ হবে না।