Overview
Periods-এর বাংলা অর্থ মাসিক বা ঋতুস্রাব। এই গাইডে মাসিক কী, মাসিক চক্র কীভাবে কাজ করে, সাধারণ লক্ষণ ও রক্তপাত, অনিয়মিত মাসিকের কারণ, Ovulation ও Pregnancy-এর সঙ্গে সম্পর্ক, পরিচ্ছন্নতা এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, এসব বিষয় সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
Periods Meaning in Bengali হল মাসিক বা ঋতুস্রাব। গর্ভধারণ না হলে জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ রক্ত ও টিস্যুর সঙ্গে যোনিপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এই রক্তপাতকেই মাসিক বা Periods বলা হয়।
নতুন চক্রে জরায়ুর আস্তরণ আবার তৈরি হতে থাকে এবং ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু পরিণত হয়। ডিম্বাণু শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত হলে নিষেক হতে পারে এবং ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপিত হতে পারে। গর্ভধারণ না হলে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে জরায়ুর আস্তরণ ঝরে গিয়ে মাসিক হয়।
তাই মাসিক শরীরে জমে থাকা ‘অপ্রয়োজনীয় রক্ত’ বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া নয়। এটি প্রজনন চক্রের স্বাভাবিক অংশ।
একটি মাসিকের প্রথম দিন থেকে পরবর্তী মাসিকের প্রথম দিন পর্যন্ত সময়কে মাসিক চক্র বা Menstrual Cycle বলা হয়। সবার চক্রের দৈর্ঘ্য এক নয়। প্রথম মাসিকের পরের কয়েক বছরে চক্র কিছুটা অনিয়মিত হতে পারে।
বয়স, মানসিক চাপ, ওজনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত ব্যায়াম, ঘুমের অভাব, অসুস্থতা ও হরমোনের পরিবর্তন চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে।
মাসিক চক্রকে সাধারণভাবে কয়েকটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়:
মাসিক চক্রের পর্যায় | শরীরে কী ঘটে? |
মাসিকের পর্যায় | জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ ঝরে রক্তপাত হয় |
ফলিকুলার পর্যায় | ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু বিকশিত হতে থাকে |
ডিম্বস্ফোটনের পর্যায় | পরিণত ডিম্বাণু ডিম্বাশয় থেকে বেরিয়ে আসে |
লুটিয়াল পর্যায় | জরায়ুর আস্তরণ গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত থাকে; গর্ভধারণ না হলে এটি আবার ঝরে যায় |
এই প্রক্রিয়া হরমোনের পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন হলে মাসিকের সময় বা চক্রের দৈর্ঘ্য বদলাতে পারে।
মাসিকের আগে বা মাসিক চলাকালীন বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন হতে পারে। সবার ক্ষেত্রে একই লক্ষণ দেখা যায় না।
সাধারণ কিছু মাসিকের লক্ষণ হল:
কিছু মহিলার মাসিক শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আবার কারও কোনও পূর্বলক্ষণ নাও থাকতে পারে।
মাসিকের রক্তপাতের পরিমাণ ও স্থায়িত্ব ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হতে পারে। সাধারণত মাসিকের রক্তপাত প্রায় ২–৭ দিন স্থায়ী হতে পারে। অনেকের প্রথম দুই-তিন দিন তুলনামূলক বেশি রক্তপাত হয় এবং পরে ধীরে ধীরে কমে আসে।
মাসিকের সব দিন রক্তের রং একই রকম নাও থাকতে পারে। শুরুতে রক্ত উজ্জ্বল লাল এবং পরে গাঢ় লাল বা বাদামি দেখাতে পারে। শরীর থেকে বের হতে কিছুটা সময় লাগলে রক্তের রং গাঢ় হওয়া স্বাভাবিক।
বেশি রক্তপাতের দিনগুলিতে ছোট রক্তের জমাট অংশ বা clot বের হওয়া অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে। রক্ত ও জরায়ুর টিস্যু একসঙ্গে জমাট বাঁধলে এমন হতে পারে।
তবে বারবার বড় আকারের clot বের হওয়া, খুব বেশি রক্তপাত হওয়া বা এর সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এমনটা নিয়মিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কোনও কোনও মাসে মাসিক কয়েক দিন আগে বা পরে হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু মাসিক চক্র যদি বারবার অনিয়মিত হয়, তাহলে এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
মাসিক চক্র বিভিন্ন হরমোনের ওঠানামার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন হলে মাসিকের সময় বা রক্তপাতের ধরন বদলে যেতে পারে।
বিশেষ করে প্রথম মাসিক শুরু হওয়ার পরের কয়েক বছরে এবং মেনোপজের আগে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। থাইরয়েডের কার্যকারিতায় পরিবর্তন বা অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যাও মাসিকের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ব্যায়াম, অপর্যাপ্ত খাবার এবং ঘুমের বড় পরিবর্তন মাসিক চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভ্রমণ, অসুস্থতা বা দৈনন্দিন রুটিনে বড় পরিবর্তনের কারণেও কোনও কোনও মাসে মাসিক কিছুটা এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে। একবার মাসিক দেরি হওয়া মানেই স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়ার দরকার নেই। তবে পরিবর্তনটি বারবার হলে কারণ খুঁজে দেখা উচিত।
PCOS বা Polycystic Ovary Syndrome একটি হরমোন-সম্পর্কিত অবস্থা, যা কিছু মহিলার ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক বা ডিম্বস্ফোটনের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
তবে অনিয়মিত মাসিক হলেই PCOS আছে, এমন নয়। থাইরয়েডের সমস্যা, ওজনের পরিবর্তন, মানসিক চাপসহ আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই মাসিক দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত হলে নিজে থেকে PCOS-এর সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মাসিক চক্রের সঙ্গে ডিম্বস্ফোটনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পরিণত ডিম্বাণু ডিম্বাশয় থেকে বেরিয়ে আসে। এই ঘটনাকে Ovulation বা ডিম্বস্ফোটন বলা হয়।
ডিম্বাণু শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত হলে নিষেক হতে পারে। গর্ভধারণ না হলে হরমোনের পরিবর্তনে জরায়ুর আস্তরণ ঝরে মাসিক শুরু হয়।
মাসিক হচ্ছে মানেই প্রতি মাসে ডিম্বস্ফোটন হয়েছে, এমন নয়। কিছু ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটন ছাড়াও মাসিকের মতো রক্তপাত হতে পারে।
মাসিক ও গর্ভধারণ একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলেও গর্ভধারণ হলে সাধারণত স্বাভাবিক মাসিক হয় না।
ডিম্বস্ফোটনের সময় ডিম্বাশয় থেকে একটি ডিম্বাণু বেরিয়ে আসে। ডিম্বাণু শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত হলে নিষেক ঘটে এবং এরপর ভ্রূণের বিকাশ শুরু হতে পারে।
গর্ভধারণ না হলে জরায়ুর আস্তরণ ঝরে পড়ে এবং মাসিক হয়।
তাই যৌনভাবে সক্রিয় কারও প্রত্যাশিত সময়ে মাসিক না হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত। গর্ভধারণের পর মাসিক কবে ফিরে আসে এবং প্রসবের পর পিরিয়ডে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে, তা জানতে গর্ভাবস্থার পর মাসিক নিয়ে এই বিস্তারিত গাইডটি দেখুন। তবে মাসিক দেরি হওয়ার আরও অনেক কারণ থাকতে পারে, যেমন মানসিক চাপ, ওজনের পরিবর্তন, অসুস্থতা বা হরমোনের সমস্যা।
মাসিকের সময় পরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু বিষয় মনে রাখতে পারেন:
জননাঙ্গের ভেতরের অংশ আলাদা করে পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই। শরীরের স্বাভাবিক ব্যবস্থা নিজেই এই অংশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
মাসিক নিয়ে অনেক পুরনো ধারণা প্রচলিত রয়েছে। সেগুলির মধ্যে কিছু বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
মাসিকের রক্ত শরীরে জমে থাকা বিষাক্ত বা নোংরা রক্ত নয়। এটি জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ, রক্ত ও অন্যান্য টিস্যুর মিশ্রণ।
মাসিক চক্রের দৈর্ঘ্য ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হতে পারে। তাই প্রতি মাসে একই তারিখে মাসিক না হলেও সবসময় সমস্যা বোঝায় না।
শরীর ভালো থাকলে মাসিকের সময় হালকা বা স্বাভাবিক ব্যায়াম করা যায়।
সব ক্ষেত্রে এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কিছু ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটন ছাড়াও মাসিকের মতো রক্তপাত হতে পারে।
সামান্য পরিবর্তন অনেক সময় স্বাভাবিক। তবে কিছু লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো যদি:
গর্ভধারণের সম্ভাবনার সঙ্গে রক্তপাত বা তীব্র পেটব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।