Overview
গর্ভধারণের কথা বললে ডিম্বাণুর পাশাপাশি শুক্রাণুর কথাও জানা জরুরি। কারণ পুরুষের প্রজননক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্ভর করে শুক্রাণুর সংখ্যা, চলনক্ষমতা এবং গঠনের ওপর। তবে শুধু শুক্রাণুর সংখ্যা দেখেই একজন পুরুষের প্রজননক্ষমতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
এই লেখায় Sperm-এর বাংলা অর্থ, শুক্রাণু কোথায় তৈরি হয়, এর গঠন ও কাজ, শুক্রাণুর সঙ্গে গর্ভধারণের সম্পর্ক এবং শুক্রাণুর স্বাস্থ্য কীভাবে পরীক্ষা করা হয়, এসব সহজভাবে আলোচনা করা হল।
Sperm meaning in Bengali হলো শুক্রাণু। এটি পুরুষের প্রজনন কোষ, যার প্রধান কাজ হল নারীর ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়ে নিষেক বা গর্ভধারণের প্রক্রিয়া শুরু করা।
শুক্রাণু খুব ছোট একটি কোষ। এটি পুরুষের অণ্ডকোষে তৈরি হয় এবং পরিণত হওয়ার পর বীর্যের সঙ্গে শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে। একটি বীর্যপাতের মধ্যে সাধারণত অসংখ্য শুক্রাণু থাকে।
একটি পরিণত শুক্রাণুর সাধারণত তিনটি প্রধান অংশ থাকে মাথা, মধ্যভাগ এবং লেজ। মাথার সামনের দিকে অ্যাক্রোসোম থাকে।
তাই শুক্রাণুর শুধু সংখ্যা বেশি হলেই যথেষ্ট নয়। তার গঠন স্বাভাবিক হওয়া এবং সঠিকভাবে চলতে পারাও গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রাণুর মূল কাজ হল নারীর প্রজননপথ দিয়ে এগিয়ে ডিম্বাণুতে পৌঁছানো এবং তার সঙ্গে মিলিত হয়ে নিষেক ঘটানো। তবে শুক্রাণুর প্রতিটি অংশ নিষেকের সময় আলাদা ভূমিকা পালন করে।
শুক্রাণুর অংশ | প্রধান কাজ |
মাথা | বাবার জিনগত তথ্য বহন করে |
কোষকেন্দ্র | জিনগত উপাদান সংরক্ষণ করে |
অ্যাক্রোসোম | ডিম্বাণুর সুরক্ষামূলক স্তর অতিক্রম করতে সাহায্য করে |
মধ্যভাগ | চলাচলের জন্য শক্তি জোগায় |
লেজ | শুক্রাণুকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে |
তবে লক্ষ লক্ষ শুক্রাণুর মধ্যে সাধারণত একটি শুক্রাণুই ডিম্বাণুর সঙ্গে নিষেকে অংশ নেয়। তাই গর্ভধারণের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর সংখ্যা, চলনক্ষমতা এবং গঠনে তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
Sperm এবং Male Fertility-এর মধ্যে সম্পর্ক
পুরুষের প্রজননক্ষমতা মূল্যায়নের সময় চিকিৎসক সাধারণত শুক্রাণুর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখেন। এর মধ্যে প্রধান হল স্প্রাম কাউন্ট , স্পার্ম মটিলিটি এবং স্প্রাম মর্ফোলজি।
স্প্রাম কাউন্ট বলতে বীর্যে থাকা শুক্রাণুর সংখ্যা বোঝায়। সাধারণত প্রতি মিলিলিটার বীর্যে কত শুক্রাণু রয়েছে এবং পুরো বীর্যপাতে মোট কত শুক্রাণু রয়েছে, দুইভাবেই এটি রিপোর্ট করা হতে পারে।
WHO-এর ২০২১ সালের ষষ্ঠ সংস্করণের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মিলিলিটারে ১৬ মিলিয়ন এবং পুরো বীর্যপাতে মোট ৩৯ মিলিয়ন শুক্রাণু হল নিম্ন রেফারেন্স মান। তবে এগুলিকে গর্ভধারণের জন্য নির্দিষ্ট ‘পাস নম্বর’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। কারণ এই মানের নিচেও কিছু পুরুষের স্বাভাবিকভাবে সন্তান হয়েছে।
স্পার্ম মটিলিটি বলতে শুক্রাণুর চলার ক্ষমতা বোঝায়। ডিম্বাণুতে পৌঁছতে শুক্রাণুকে নারীর প্রজননপথের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়, তাই চলনক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।
মোট চলনক্ষম শুক্রাণুর মান ৪২% এবং প্রগ্রেসিভ মোটিলিটির মান ৩০%। তবে এগুলিও একা পুরুষের ফার্টিলিটি নির্ধারণ করে না। তাই সিমেন এনালিসিস সম্পর্কে আরো জানতে পড়ুন।
মর্ফোলজি বলতে শুক্রাণুর আকার ও গঠন বোঝায়। মাথা, মধ্যাংশ এবং লেজের গঠনে অস্বাভাবিকতা থাকলে শুক্রাণুর স্বাভাবিকভাবে চলা বা ডিম্বাণুর সঙ্গে নিষেকে সমস্যা হতে পারে। তাই ফার্টিলিটি মূল্যায়নের সময় স্পার্ম মোটিলিটি-ও দেখা হয়। এই সব বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে দেখে পুরুষের প্রজননক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
জীবনযাপনের কিছু বিষয় শুক্রাণুর তৈরি হওয়া ও গুণমানের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই:
তবে নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে শুক্রাণুর মান কমার কারণ জানতে শুধু জীবনযাপনের অভ্যাস দেখলেই হবে না। প্রয়োজনে চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা, চিকিৎসার ইতিহাস এবং অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।
পুরুষের গর্ভধারণের ক্ষমতা মূল্যায়নের প্রাথমিক পরীক্ষাগুলির মধ্যে অন্যতম হল সিমেন টেস্ট। হাসপাতাল-এর নির্দেশ অনুযায়ী বীর্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
এই নমুনায় বীর্যের পরিমাণ, শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা, সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা, আকৃতি ও জীবিত থাকার ক্ষমতার মতো বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করা হয়।
একটি বীর্যের নমুনার ফল অন্য দিনের নমুনার তুলনায় কিছুটা আলাদা হতে পারে। তাই অস্বাভাবিক ফল পাওয়া গেলে চিকিৎসক কখনও কখনও আবার পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।
প্রয়োজনে হরমোন পরীক্ষা, শারীরিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড বা অন্যান্য বিশেষ পরীক্ষাও করা হতে পারে।
স্পার্ম কাউন্ট কম পাওয়া গেলে প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। কারণ কম ফলাফলের পেছনে কারণটি জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসক প্রয়োজনে শারীরিক পরীক্ষা, হরমোন পরীক্ষা, চিকিৎসার ইতিহাস বা আরও কিছু পরীক্ষা করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে জীবনযাপনে পরিবর্তন যথেষ্ট হতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
গর্ভধারণে সমস্যা থাকলে শুধু পুরুষের পরীক্ষা নয়, দুজনেরই একসঙ্গে মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গর্ভধারণের সমস্যা পুরুষের কারণ, নারীর কারণ অথবা দুজনের কারণ মিলেও হতে পারে।
গর্ভধারণের জন্য একটি সুস্থ শুক্রাণুকে ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছতে এবং তার সঙ্গে নিষেকে অংশ নিতে হয়। তাই শুক্রাণুর সংখ্যা খুব কম হলে, চলনক্ষমতা কম হলে বা গঠনে উল্লেখযোগ্য সমস্যা থাকলে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমতে পারে।
তবে শুধু একটি স্পার্ম কাউন্ট-এর রিপোর্ট দেখে গর্ভধারণ হবে কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। পুরুষ ও নারী উভয়ের ফার্টিলিটি, বয়স, ডিম্বস্ফোটন, প্রজনন অঙ্গের অবস্থা এবং অন্যান্য বিষয়ও বিবেচনা করতে হয়।
শুক্রাণুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু বিষয়ের দিকে নজর দেওয়া যায়—
মনে রাখতে হবে, কোনও একটি খাবার, পানীয় বা সম্পূরক গ্রহণ করলেই শুক্রাণুর মান নিশ্চিতভাবে ভালো হয়ে যাবে, এমন প্রমাণ সব ক্ষেত্রে নেই।
শুক্রাণু নিয়ে অনেক প্রচলিত ধারণা রয়েছে, কিন্তু তার সবই বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। যেমন:
নিচের পরিস্থিতিগুলির কোনওটি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো:
এসব ক্ষেত্রে নিজে থেকে কারণ ধরে নেওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের মাধ্যমে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করানোই নিরাপদ।