বন্ধ্যাত্বের ৩ ধরন: কারণ বুঝে সঠিক সময়ে সাহায্য নিন

Last updated: February 12, 2026

Overview

গর্ভধারণে সমস্যা হওয়া অনেক দম্পতির সাধারণ অভিজ্ঞতা, তবে সব বন্ধ্যাত্ব এক রকম নয়। এই ব্লগে প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ও আন এক্সপ্লেইন্ড, এই তিন ধরনের বন্ধ্যাত্ব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে আপনি নিজের পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন। আপনি প্রথমবার প্রেগন্যান্সির চেষ্টা করছেন বা আগে গর্ভধারণ হয়েছে কিন্তু এখন সমস্যা হচ্ছে, দুই ক্ষেত্রেই কোন কোন কারণে ফার্টিলিটি কমে যেতে পারে তা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি জানবেন কখন চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া দরকার, কোন পরীক্ষা করা হয় এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তন, IUI বা IVF, কোন পথে চিকিৎসা এগোতে পারে।

বন্ধ্যাত্ব কি?

বন্ধ্যাত্ব আসলে একটি মেডিক্যাল কন্ডিশন। সাধারণভাবে বলা হয়, যখন কোনো দম্পতি এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে প্রোটেকশন ছাড়া নিয়মিত সহবাস করছেন, কিন্তু কোনো মেডিক্যাল কারণে (দু’জনের কারও পরিচিত চিকিৎসা জনিত কারণ ছাড়াই) গর্ভধারণ হচ্ছে না, তখন তাকে বন্ধ্যাত্ব ধরা হয়।

বন্ধ্যাত্ব শুধু মহিলাদের সমস্যা নয়, পুরুষ, মহিলা দু’পক্ষের যেকোনো একজনের, বা দু’জনেরই শরীর সংক্রান্ত বা লাইফস্টাইল সংক্রান্ত কারণে এই সমস্যা হতে পারে। তাই শুরুর দিকেই সঠিক ডায়াগনোসিস খুব গুরুত্বপূর্ণ, যাতে চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যায়।

কারণ ঠিকমতো চিহ্নিত করতে পারলে ডাক্তাররা সেই অনুযায়ী ব্যক্তিগত বা দম্পতি–ভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে পারেন।

বন্ধ্যাত্বের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি, কারণ প্রতিটি ধরনের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করার পদ্ধতি, চিকিৎসার ধাপ এবং লাগবে এমন সময় সবই আলাদা হতে পারে। Types of infertility বুঝে নেওয়াই খুব জরুরি, যাতে আপনি এবং আপনার সঙ্গী সঠিক সময়ে সঠিক সাহায্য নিতে পারেন।

প্রাইমারি বন্ধ্যাত্ব

প্রাইমারি বন্ধ্যাত্ব এমন অবস্থাকে বলা হয় যেখানে কোনো দম্পতি এক বছর ধরে নিয়মিত, প্রোটেকশন ছাড়া সহবাস করেও গর্ভধারণ করতে পারেন না। এই ডায়াগনোসিস তখনই দেওয়া হয় যখন দম্পতির আগে কখনও গর্ভধারণের অভিজ্ঞতা নেই। এর কারণ শুধু মহিলার নয়, পুরুষের দিক থেকেও সমানভাবে হতে পারে। প্রজনন সমস্যার মধ্যে এটিই সবচেয়ে সাধারণ ধরন।

প্রাইমারি বন্ধ্যাত্বের কারণ কী?

প্রাইমারি বন্ধ্যাত্ব সাধারণভাবে কয়েকটি মূল কারণে হয় ডিম্বস্ফোটনের সমস্যা, শুক্রাণুর খারাপ মান, ডিম্বনালির (ফ্যালোপিয়ান নলি) বাধা, আর হরমোনের ওঠানামা বা অসামঞ্জস্য।

প্রাইমারি বন্ধ্যাত্বের পেছনে ঠিক কোন কারণ কাজ করছে, সেটা বুঝতে পারলে চিকিৎসা ঠিক করা সহজ হয় এবং ফল ভালো পাওয়া যায়। সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলোঃ

  • ডিম্বস্ফোটনের সমস্যা: থাইরয়েডের গোলমাল, PCOS বা হরমোনের অসামঞ্জস্যতার কারণে অনেক সময় ডিম্বস্ফোটন নিয়মিত হয় না। ফলে সঠিক সময়ে ডিম্বাণু বের হয় না, গর্ভধারণ ও কঠিন হয়ে যায়।
  • শুক্রাণুর মান কমে যাওয়া: পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা কম থাকা, গতি কম থাকা বা আকারে ত্রুটি থাকা, এসবই উর্বরতা কমিয়ে দেয়। এটি পুরুষ-জনিত বন্ধ্যাত্বের অন্যতম কারণ।
  • ডিম্বনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া: সংক্রমণ, এন্ডোমেট্রিওসিস, ক্ষত বা আগের অস্ত্রোপচারের ফলে ডিম্বনালি আটকে যেতে পারে। এতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ব্যাহত হয়।
  • হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া: মাসিক ও ডিম্বস্ফোটন নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে মাসিক চক্র এলোমেলো হয় এবং স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণে দেরি হতে পারে।
  • বয়স ও জীবনযাপন-সংক্রান্ত কারণ: বয়স বাড়া, অতিরিক্ত স্ট্রেস, কম ঘুম, ধূমপান, অ্যালকোহল বা অতিরিক্ত ওজন, এসবও উর্বরতা কমিয়ে দিতে পারে।

কখন চিকিৎসকের সাহায্য নেবেন

যদি নিচের যেকোনো পরিস্থিতি দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ:

  • দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হওয়া: এক বছর ধরে নিয়মিত, সুরক্ষা ছাড়া সহবাসের পরও গর্ভধারণ না হলে ডাক্তারের কাছে যান। বয়স ৩৫-এর বেশি হলে ৬ মাস চেষ্টা করাই যথেষ্ট।
  • মাসিক অনিয়মিত: মাসিক খুব অনিয়মিত হলে, অনেক ফাঁকে এলে, বা বহুদিন ধরে মাসিক বন্ধ থাকলে তা হরমোন গত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, এক্ষেত্রেও চিকিৎসকের সাহায্য প্রয়োজন।
  • আগে থেকেই কোনো প্রজনন–স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে: আপনার বা আপনার সঙ্গীর মধ্যে PCOS, থাইরয়েড সমস্যা, শুক্রাণুর মান কম থাকা, এন্ডোমেট্রিওসিস বা অন্য কোনো প্রজনন জনিত অসুবিধা থাকলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

সেকেন্ডারি বন্ধ্যাত্ব

সেকেন্ডারি বন্ধ্যাত্ব বলতে এমন অবস্থাকে বোঝায়, যখন আগে অন্তত একবার গর্ভধারণ হয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে আর গর্ভধারণ হচ্ছে না, অথবা হলেও সেই গর্ভধারণ পূর্ণ সময় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।

এই ধরনের বন্ধ্যাত্ব হিসেবে ধরা হবে তখনই, যখন আগের সফল গর্ভধারণের সময় কোনো শক্তিশালী বন্ধ্যাত্ব সংক্রান্ত ওষুধ বা টেস্ট টিউব বেবি-ধরনের বিশেষ চিকিৎসার সাহায্য নেওয়া হয়নি।

সেকেন্ডারি বন্ধ্যাত্ব কারণ কি?

  • বয়সজনিত পরিবর্তন: বিশেষ করে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে ডিম্বাণুর মান কমে যাওয়া বা হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া।
  • জরায়ুর সমস্যা: ফাইব্রয়েড, ছোট মাংসপিণ্ড, জরায়ুর ভেতরে ক্ষত বা স্কার টিস্যু থাকার কারণে ভ্রূণ স্থাপন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
  • আগের গর্ভাবস্থার জটিলতা: প্রেগন্যান্সির সময় হওয়া ইনফেকশন, ডেলিভারির পরে প্লাসেন্টার অংশ ভেতরে থেকে যাওয়া, এসবই ভবিষ্যতের গর্ভধারণে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
  • জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্য পরিবর্তন: হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া, BMI বৃদ্ধি, ধূমপান, অ্যালকোহল, ঘুমের সমস্যা বা অতিরিক্ত স্ট্রেস, সবই ফার্টিলিটি প্রভাব ফেলে।
  • নতুন বা বেড়ে ওঠা স্বাস্থ্য সমস্যা: ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের অসুবিধা, অটোইমিউন–সংক্রান্ত সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ, এগুলোও গর্ভধারণ কঠিন করে তুলতে পারে।

কখন চিকিৎসকের সাহায্য নেবেন

আপনাকে নিচের যেকোনো ক্ষেত্রে অবশ্যই বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে:

  • 6-12 মাস চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হলে।
  • একের পর এক বারবার গর্ভপাত হলে।
  • হঠাৎ মাসিকের ধরণ বদলে গেলে বা অন্য কোনো শারীরিক পরিবর্তন (যেমন প্রচণ্ড ক্লান্তি, চুল পড়া, ওজন খুব কমে যাওয়া/বাড়তে থাকা) লক্ষ্য করলে।
  • আপনি বা আপনার সঙ্গীর হঠাৎ অনেক ওজন বেড়ে গেলে, বা নতুন কোনো শারীরিক রোগ (যেমন ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ইত্যাদি) ধরা পড়লে।

অজানা কারণে বন্ধ্যাত্ব

যখন সব রকম রুটিন বন্ধ্যাত্ব সংক্রান্ত পরীক্ষা স্বাভাবিক আসে, তবুও গর্ভধারণ হয় না, তখন সেটাকে অজানা কারণে বন্ধ্যাত্ব (unexplained infertility) বলা হয়।

“অজানা” মানে এই নয় যে কোনো কারণ নেই; এর মানে হলো এখন পর্যন্ত করা পরীক্ষায় কারণে ধরা পড়েনি বা সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়নি।

সম্ভাব্য কারণগুলো

অজানা কারণে বন্ধ্যাত্বের পেছনে অনেক সূক্ষ্ম কারণ কাজ করতে পারে, যা সাধারণ পরীক্ষা–নিরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। যেমন:

  • মৃদু হরমোনের অসামঞ্জস্য: হরমোনের মাত্রা খুব সামান্য ওঠানামা থাকলেও ডিম্বস্ফোটন বা ভ্রূণ জরায়ুতে বসার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে, যা সাধারণ রিপোর্টে ধরা নাও পড়ে।
  • ডিম্বাণু বা শুক্রাণুর মান কমে যাওয়া: পরীক্ষায় ডিম্বাণু বা শুক্রাণু “স্বাভাবিক” মনে হলেও, ভ্রূণ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই গুণমানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, ফলে সুস্থ ভ্রূণ তৈরি না হওয়া, ডিম্বাণু ডিম্বনালিতে পৌঁছাতে না পারা, বা ঠিকমতো নিষেক না হওয়ার সমস্যা হতে পারে।
  • মানসিক চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব: হালকা থেকে তীব্র মাত্রার মানসিক চাপ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা এসব স্ট্রেস–সম্পর্কিত হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা ডিম্বস্ফোটনে গোলমাল, মাসিক অনিয়ম এবং সামগ্রিক প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
  • জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণের (এন্ডোমেট্রিয়াম) প্রস্তুতির ঘাটতি: ডিম্বস্ফোটন ও নিষেক ঠিকমতো হয়েও যদি জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ ভ্রূণ বসার জন্য যথেষ্ট “প্রস্তুত” না থাকে, তবে গর্ভধারণ স্থায়ী হয় না। এই সূক্ষ্ম সমস্যা অনেক সময় সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না।
  • ডিম্বনালির হালকা কার্যকারিতা সংক্রান্ত সমস্যা: স্ক্যানে ডিম্বনালি খোলা দেখা গেলেও, ভেতরের সূক্ষ্ম গতিশীলতা ঠিকমতো কাজ না করলে ডিম্বাণু বা ভ্রূণের যাতায়াতের সমস্যা হতে পারে। এটাই সূক্ষ্ম ডিম্বনালি জনিত সমস্যা বলা হয়।
  • জীবনযাত্রা সংক্রান্ত প্রভাব: অতিরিক্ত কফি বা মদ্যপান, একেবারেই ব্যায়াম না করা, ধূমপান, খুব কম ওজন থাকা বা অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাওয়া এসব কারণও ফার্টিলিটি বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যদিও সব সময় রিপোর্টে “রোগ” হিসেবে ধরা পড়ে না।

এই সব কারণ মিলিয়ে অনেক সময় রিপোর্ট নরমাল হলেও গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। তাই “অজানা কারণে বন্ধ্যাত্ব” কথাটা শুনে ভয় না পেয়ে, সঠিক বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে ধাপে ধাপে পরিকল্পিতভাবে এগোনোই সবচেয়ে ভালো পথ।

কী করা যেতে পারে

সঠিক কারণ জানা না থাকলেও, কিছু পদক্ষেপ নিয়ে অনেক সময় গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ানো যায়:

  • জীবনযাপনে পরিবর্তন: স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, ধূমপান ছেড়ে দেওয়া, অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত কফি খাওয়া কমিয়ে দিলে প্রজনন স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
  • ডিম্বস্ফোটন (ovulation) ট্র্যাক করা: ওভুলেশন কিট, মোবাইল অ্যাপ বা সকালের শরীরের তাপমাত্রা মেপে বুঝে নেওয়া যায় কবে ডিম্বস্ফোটন হচ্ছে। এতে সঠিক সময়ে সহবাসের পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
  • সময় মিলিয়ে সহবাস (timed intercourse): যে দিনগুলোতে ডিম্বস্ফোটনের সম্ভাবনা বেশি, সেই “ফার্টাইল উইন্ডো”-র সঙ্গে মিলিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে গর্ভধারণের সুযোগ বাড়ে।
  • ফার্টিলিটি চিকিৎসা: এক বছর চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হলে, অনেক সময় ডাক্তাররা IUI বা IVF–এর মতো ফার্টিলিটি ট্রিটমেন্ট এর পরামর্শ দেন।

রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা

বন্ধ্যাত্বের ধরন এবং কোন চিকিৎসা সবচেয়ে উপযুক্ত হবে তা নির্ধারণ করতে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা খুবই জরুরি।

মেডিকেল হিস্ট্রি, শারীরিক পরীক্ষা ও বিশেষায়িত টেস্টের মাধ্যমে বন্ধ্যাত্বের কারণও শনাক্ত করা যেতে পারে।

ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞরা সাধারণত যে সব পরীক্ষা করে থাকেন, তার মধ্যে রয়েছে -

  • হরমোনের রক্ত পরীক্ষা: এতে প্রজনন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন, যেমন FSH, LH, AMH ও থাইরয়েড হরমোন পরিমাপ করা হয়। নিয়মিত মাসিক চক্র ও ডিম্বস্ফোটনের জন্য এগুলো খুব জরুরি।
  • বীর্য পরীক্ষা (সিমেন অ্যানালিসিস): এতে শুক্রাণুর সংখ্যা, আকার–আকৃতি এবং চলাফেরা (মোটিলিটি) পরীক্ষা করে দেখা হয়। পুরুষের দিক থেকে কোনো ফার্টিলিটি সমস্যা আছে কি না, তা বোঝা যায়।
  • ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড: যোনি পথে আল্ট্রাসাউন্ড করে ডিম্বাশয় ও জরায়ুর স্পষ্ট ছবি দেখা হয়। এতে সিস্ট, ফাইব্রয়েড, বা জরায়ুর ভেতরের আস্তরণে কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না, তা বোঝা যায়।
  • হিস্টেরোসালপিংগ্রাফি (HSG): এক ধরনের এক্স–রে পরীক্ষা, যেখানে কনট্রাস্ট ডাই দিয়ে দেখা হয় ডিম্বনালি খোলা আছে কি না এবং জরায়ুর ভেতরের গঠন স্বাভাবিক আছে কি না।
  • অ্যাডভান্সড ফার্টিলিটি টেস্টিং: সব বেসিক পরীক্ষা স্বাভাবিক হলেও যদি কারণ বোঝা না যায়, তাহলে ডাক্তার এন্ডোমেট্রিয়াল বায়োপসি, ল্যাপারোস্কপি ইত্যাদির পরামর্শ দিতে পারেন, যাতে ভেতরের সূক্ষ্ম সমস্যা ধরা পড়ে।

এই সব পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বসে রিপোর্ট আলোচনা করলে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা যায় কী ধরনের চিকিৎসা দরকার, কতটা জরুরি, আর ভবিষ্যতের জন্য কী পরিকল্পনা করা উচিত এসব বিষয়ে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

উপসংহার

সমাধানের প্রথম ধাপ হলো আগে বুঝে নেওয়া আপনি ঠিক কোন ধরনের বন্ধ্যাত্বের মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, বা অজানা কারণে বন্ধ্যাত্ব প্রতিটি ধরনেরই আলাদা চ্যালেঞ্জ আছে, আবার আলাদা চিকিৎসার পথও আছে।

আজকাল ফার্টিলিটি নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসা অনেক এগিয়েছে। অনেক দম্পতি এখন সফলভাবে গর্ভধারণ করে পরিবার গড়তে পারছেন। আপনি যদি সময় থাকতে থাকতেই ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের কাছে যান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসা নেন, তাহলে অভিভাবক হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

বন্ধ্যাত্ব কি একেবারে সেরে যেতে পারে?

 

কিছু ক্ষেত্রে হ্যাঁ, কারণ ঠিকমতো ধরা পড়লে ও চিকিৎসা নিলে গর্ভধারণ সম্ভব হতে পারে।

সেকেন্ডারি বন্ধ্যাত্ব কি প্রাইমারির চেয়ে বেশি হয়?

 

সাধারণভাবে প্রাইমারি বন্ধ্যাত্ব বেশি দেখা যায়, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সেকেন্ডারি কেসও বাড়ছে।

অজানা কারণে বন্ধ্যাত্ব মানসিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলে?

 

অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা, অপরাধবোধ ও হতাশা—এসব অনুভূতি খুব সাধারণ; অনেকেই মানসিক চাপ ও উদ্বেগে ভোগেন।

দম্পতির কত তাড়াতাড়ি ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত?

 

এক বছর চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে (বয়স ৩৫-এর বেশি হলে ৬ মাসের মধ্যে) বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত।

সব ধরনের বন্ধ্যাত্বের জন্য কি IUI ও IVF উপযুক্ত?

 

না, সব ক্ষেত্রে নয়। কারণ, বয়স ও স্বাস্থ্য অনুযায়ী ডাক্তার ঠিক করেন কোন পদ্ধতি উপযোগী।

গর্ভধারণের সুযোগ কীভাবে বাড়াতে পারি?

 

সুস্থ ওজন, ভালো খাবার, ধূমপান–অ্যালকোহল কমানো, ডিম্বস্ফোটনের সময় জেনে সহবাস, আর প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ সব মিলিয়ে।

ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের ভূমিকা কী?

 

কারণ খুঁজে বের করা, সঠিক পরীক্ষা করানো, রিপোর্ট বোঝানো এবং আপনাদের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা করে দেওয়া।

কোন জীবনযাত্রার পরিবর্তন ফার্টিলিটি ভালো করতে সাহায্য করে?

 

ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ও অ্যালকোহল ছাড়া, ভালো ঘুম, স্ট্রেস কমানো এসবই সাহায্য করে।

ডিম্বস্ফোটনের (ovulation) লক্ষণ কী কী?

 

মাঝচক্রে যে স্বচ্ছ বা হালকা লালচে স্রাব দেখা যায়, তার সঙ্গে সামান্য পেটব্যথা, টান লাগা বা নিচের পেটে চাপ অনুভব করা, এসবই বেশ স্বাভাবিক। অনেকের ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রায়ও অল্প ওঠানামা হতে পারে। এগুলো সাধারণত ডিম্বস্ফোটনের সময় ঘটে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিন্তার কিছু থাকে না।

**Disclaimer: The information provided here serves as a general guide and does not constitute medical advice. We strongly advise consulting a certified fertility expert for professional assessment and personalized treatment recommendations.
© 2026 Indira IVF Hospital Limited. All Rights Reserved. T&C Apply | Privacy Policy| *Disclaimer