গর্ভধারণে সমস্যা হওয়া অনেক দম্পতির সাধারণ অভিজ্ঞতা, তবে সব বন্ধ্যাত্ব এক রকম নয়। এই ব্লগে প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ও আন এক্সপ্লেইন্ড, এই তিন ধরনের বন্ধ্যাত্ব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে আপনি নিজের পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন। আপনি প্রথমবার প্রেগন্যান্সির চেষ্টা করছেন বা আগে গর্ভধারণ হয়েছে কিন্তু এখন সমস্যা হচ্ছে, দুই ক্ষেত্রেই কোন কোন কারণে ফার্টিলিটি কমে যেতে পারে তা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি জানবেন কখন চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া দরকার, কোন পরীক্ষা করা হয় এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তন, IUI বা IVF, কোন পথে চিকিৎসা এগোতে পারে।
বন্ধ্যাত্ব আসলে একটি মেডিক্যাল কন্ডিশন। সাধারণভাবে বলা হয়, যখন কোনো দম্পতি এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে প্রোটেকশন ছাড়া নিয়মিত সহবাস করছেন, কিন্তু কোনো মেডিক্যাল কারণে (দু’জনের কারও পরিচিত চিকিৎসা জনিত কারণ ছাড়াই) গর্ভধারণ হচ্ছে না, তখন তাকে বন্ধ্যাত্ব ধরা হয়।
বন্ধ্যাত্ব শুধু মহিলাদের সমস্যা নয়, পুরুষ, মহিলা দু’পক্ষের যেকোনো একজনের, বা দু’জনেরই শরীর সংক্রান্ত বা লাইফস্টাইল সংক্রান্ত কারণে এই সমস্যা হতে পারে। তাই শুরুর দিকেই সঠিক ডায়াগনোসিস খুব গুরুত্বপূর্ণ, যাতে চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যায়।
কারণ ঠিকমতো চিহ্নিত করতে পারলে ডাক্তাররা সেই অনুযায়ী ব্যক্তিগত বা দম্পতি–ভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে পারেন।
বন্ধ্যাত্বের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি, কারণ প্রতিটি ধরনের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করার পদ্ধতি, চিকিৎসার ধাপ এবং লাগবে এমন সময় সবই আলাদা হতে পারে। Types of infertility বুঝে নেওয়াই খুব জরুরি, যাতে আপনি এবং আপনার সঙ্গী সঠিক সময়ে সঠিক সাহায্য নিতে পারেন।
প্রাইমারি বন্ধ্যাত্ব এমন অবস্থাকে বলা হয় যেখানে কোনো দম্পতি এক বছর ধরে নিয়মিত, প্রোটেকশন ছাড়া সহবাস করেও গর্ভধারণ করতে পারেন না। এই ডায়াগনোসিস তখনই দেওয়া হয় যখন দম্পতির আগে কখনও গর্ভধারণের অভিজ্ঞতা নেই। এর কারণ শুধু মহিলার নয়, পুরুষের দিক থেকেও সমানভাবে হতে পারে। প্রজনন সমস্যার মধ্যে এটিই সবচেয়ে সাধারণ ধরন।
প্রাইমারি বন্ধ্যাত্ব সাধারণভাবে কয়েকটি মূল কারণে হয় ডিম্বস্ফোটনের সমস্যা, শুক্রাণুর খারাপ মান, ডিম্বনালির (ফ্যালোপিয়ান নলি) বাধা, আর হরমোনের ওঠানামা বা অসামঞ্জস্য।
প্রাইমারি বন্ধ্যাত্বের পেছনে ঠিক কোন কারণ কাজ করছে, সেটা বুঝতে পারলে চিকিৎসা ঠিক করা সহজ হয় এবং ফল ভালো পাওয়া যায়। সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলোঃ
যদি নিচের যেকোনো পরিস্থিতি দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ:
সেকেন্ডারি বন্ধ্যাত্ব বলতে এমন অবস্থাকে বোঝায়, যখন আগে অন্তত একবার গর্ভধারণ হয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে আর গর্ভধারণ হচ্ছে না, অথবা হলেও সেই গর্ভধারণ পূর্ণ সময় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।
এই ধরনের বন্ধ্যাত্ব হিসেবে ধরা হবে তখনই, যখন আগের সফল গর্ভধারণের সময় কোনো শক্তিশালী বন্ধ্যাত্ব সংক্রান্ত ওষুধ বা টেস্ট টিউব বেবি-ধরনের বিশেষ চিকিৎসার সাহায্য নেওয়া হয়নি।
আপনাকে নিচের যেকোনো ক্ষেত্রে অবশ্যই বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে:
যখন সব রকম রুটিন বন্ধ্যাত্ব সংক্রান্ত পরীক্ষা স্বাভাবিক আসে, তবুও গর্ভধারণ হয় না, তখন সেটাকে অজানা কারণে বন্ধ্যাত্ব (unexplained infertility) বলা হয়।
“অজানা” মানে এই নয় যে কোনো কারণ নেই; এর মানে হলো এখন পর্যন্ত করা পরীক্ষায় কারণে ধরা পড়েনি বা সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়নি।
অজানা কারণে বন্ধ্যাত্বের পেছনে অনেক সূক্ষ্ম কারণ কাজ করতে পারে, যা সাধারণ পরীক্ষা–নিরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। যেমন:
এই সব কারণ মিলিয়ে অনেক সময় রিপোর্ট নরমাল হলেও গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। তাই “অজানা কারণে বন্ধ্যাত্ব” কথাটা শুনে ভয় না পেয়ে, সঠিক বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে ধাপে ধাপে পরিকল্পিতভাবে এগোনোই সবচেয়ে ভালো পথ।
সঠিক কারণ জানা না থাকলেও, কিছু পদক্ষেপ নিয়ে অনেক সময় গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ানো যায়:
বন্ধ্যাত্বের ধরন এবং কোন চিকিৎসা সবচেয়ে উপযুক্ত হবে তা নির্ধারণ করতে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা খুবই জরুরি।
মেডিকেল হিস্ট্রি, শারীরিক পরীক্ষা ও বিশেষায়িত টেস্টের মাধ্যমে বন্ধ্যাত্বের কারণও শনাক্ত করা যেতে পারে।
ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞরা সাধারণত যে সব পরীক্ষা করে থাকেন, তার মধ্যে রয়েছে -
এই সব পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বসে রিপোর্ট আলোচনা করলে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা যায় কী ধরনের চিকিৎসা দরকার, কতটা জরুরি, আর ভবিষ্যতের জন্য কী পরিকল্পনা করা উচিত এসব বিষয়ে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
সমাধানের প্রথম ধাপ হলো আগে বুঝে নেওয়া আপনি ঠিক কোন ধরনের বন্ধ্যাত্বের মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, বা অজানা কারণে বন্ধ্যাত্ব প্রতিটি ধরনেরই আলাদা চ্যালেঞ্জ আছে, আবার আলাদা চিকিৎসার পথও আছে।
আজকাল ফার্টিলিটি নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসা অনেক এগিয়েছে। অনেক দম্পতি এখন সফলভাবে গর্ভধারণ করে পরিবার গড়তে পারছেন। আপনি যদি সময় থাকতে থাকতেই ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের কাছে যান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসা নেন, তাহলে অভিভাবক হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।
কিছু ক্ষেত্রে হ্যাঁ, কারণ ঠিকমতো ধরা পড়লে ও চিকিৎসা নিলে গর্ভধারণ সম্ভব হতে পারে।
সাধারণভাবে প্রাইমারি বন্ধ্যাত্ব বেশি দেখা যায়, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সেকেন্ডারি কেসও বাড়ছে।
অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা, অপরাধবোধ ও হতাশা—এসব অনুভূতি খুব সাধারণ; অনেকেই মানসিক চাপ ও উদ্বেগে ভোগেন।
এক বছর চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে (বয়স ৩৫-এর বেশি হলে ৬ মাসের মধ্যে) বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত।
না, সব ক্ষেত্রে নয়। কারণ, বয়স ও স্বাস্থ্য অনুযায়ী ডাক্তার ঠিক করেন কোন পদ্ধতি উপযোগী।
সুস্থ ওজন, ভালো খাবার, ধূমপান–অ্যালকোহল কমানো, ডিম্বস্ফোটনের সময় জেনে সহবাস, আর প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ সব মিলিয়ে।
কারণ খুঁজে বের করা, সঠিক পরীক্ষা করানো, রিপোর্ট বোঝানো এবং আপনাদের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা করে দেওয়া।
ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ও অ্যালকোহল ছাড়া, ভালো ঘুম, স্ট্রেস কমানো এসবই সাহায্য করে।
মাঝচক্রে যে স্বচ্ছ বা হালকা লালচে স্রাব দেখা যায়, তার সঙ্গে সামান্য পেটব্যথা, টান লাগা বা নিচের পেটে চাপ অনুভব করা, এসবই বেশ স্বাভাবিক। অনেকের ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রায়ও অল্প ওঠানামা হতে পারে। এগুলো সাধারণত ডিম্বস্ফোটনের সময় ঘটে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিন্তার কিছু থাকে না।