এর কারণ: কেন হয় PCOS? প্রধান কারণ, ঝুঁকি উপাদান এবং প্রতিরোধের উপায়

Last updated: February 12, 2026

Overview

PCOS বা Polycystic Ovary Syndrome হল একটি হরমোনজনিত সমস্যা, যা অনেক মেয়েকে, বিশেষ করে প্রজননক্ষম বয়সে, প্রভাবিত করে। ঠিক কী কারণে PCOS হয় তা পুরোপুরি জানা না গেলেও, কিছু বিষয়ের সঙ্গে এর গভীর যোগ আছে, যেমন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, হরমোনের গড়মিল, জেনেটিক কারণ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।

তবে, PCOS-এর কারণগুলো সঠিক ও স্পষ্ট ভাবে জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সমস্যা যত দ্রুত ধরা পড়ে, তত সহজে নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা করা যায়। এতে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা বা বন্ধ্যাত্বের মতো ঝুঁকিও কমে। এই ব্লগটিতে আমরা PCOS-এর প্রধান কারণ, ঝুঁকি এবং বাস্তবসম্মতভাবে কিভাবে এর প্রতিকার করা যায় তা তুলে ধরেছি।

PCOS কি ?

সহজভাবে বললে Polycystic Ovary Syndrome (PCOS) হলে ডিম্বাশয় (ovary) স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অ্যান্ড্রোজেন নামের পুরুষ হরমোন তৈরি করে। এই অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন দেহের প্রজনন হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। ফলে অনেকের মাসিক অনিয়মিত হয়, কারো মাসিক বন্ধ থাকে, আবার কারো ক্ষেত্রে কখন ওভুলেশন (ovulation) হবে তা ঠিক বোঝা যায় না।

এত সাধারণ সমস্যা হওয়া সত্ত্বেও, PCOS ঠিক কেন হয় তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। অনেকেই জানতে চান: PCOS কেন হয়? PCOS কি বন্ধ্যাত্বের কারণ? হস্তমৈথুনে কি PCOS হতে পারে??

এই ব্লগে আমরা সহজ ভাষায় PCOS সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেব, কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করবো এবং পাশাপাশি চিকিৎসা ও লাইফস্টাইল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দিকেও আলোকপাত করব।

PCOS এর প্রধান কারণগুলি

একটা বিষয় আগে মনে রাখা জরুরি, PCOS সাধারণত একটিমাত্র কারণে হয় না। হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত কারণ এবং জীবনযাপনের অভ্যাস, এই কয়েকটি বিষয় একসাথে মিলেই PCOS-এর ঝুঁকি বাড়ায়।

1. হরমোনের অসামঞ্জস্য

স্বাভাবিকভাবে ডিম্বস্ফোটন নিয়ন্ত্রণ করে দু’টি হরমোন Luteinizing Hormone (LH) এবং Follicle-stimulating Hormone (FSH)। PCOS-এর ক্ষেত্রে এই LH ও FSH-এর অনুপাত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ওভারি ঠিকভাবে ডিম্বাণু তৈরি করতে পারে না এবং সিস্টের মতো ছোট ছোট ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।

PCOS-এর প্রথম দিকের সাধারণ লক্ষণ হলো অনিয়মিত বা বন্ধ মাসিক, যা মূলত এই হরমোনগত সমস্যা থেকেই আসে। রক্ত পরীক্ষায় সাধারণত LH বেশি থাকা বা অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) বাড়তি থাকার প্রমাণ মেলে, যা হরমোনগত এই পরিবর্তনকে নিশ্চিত করে।

2. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স

ইনসুলিন হলো এমন একটি হরমোন, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। অনেক PCOS আক্রান্ত মহিলার শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দেখা যায়, অর্থাৎ দেহের কোষ ইনসুলিনের প্রতি ঠিকমতো সাড়া দেয় না। এর ফলে শরীর রক্তে আরও বেশি ইনসুলিন তৈরি করে।

অতিরিক্ত ইনসুলিন আবার ওভারিকে বেশি অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) তৈরি করতে উস্কে দেয়। এর প্রভাবে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে, ওজন বাড়তে পারে এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। PCOS-এর ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের যে কারণগুলো উল্লেখ করা হয়, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ধরা হয়।

3. অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন উৎপাদন

মেয়েদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই সামান্য অ্যান্ড্রোজেন তৈরি হয়, কিন্তু যখন এই অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয়ে যায়, তখন তা ডিম্বস্ফোটনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়। এর ফলে ডিম্বস্ফোটন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার কারণে গর্ভধারণ স্বাভাবিকভাবেই কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেনের প্রভাব হিসেবে মুখে ও শরীরে বাড়তি লোম গজানো, ব্রণ হওয়া, মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা বেশি করে চুল পড়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

4. হালকা মাত্রার ইনফ্লামেশন

PCOS থাকা অনেক মহিলার শরীরে হালকা মাত্রার, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (low-grade chronic inflammation) বেশি দেখা যায়। এই প্রদাহের কারণে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আরও বাড়তে পারে এবং তার প্রভাবে ওভারি আরও বেশি অ্যান্ড্রোজেন তৈরি করতে শুরু করে।

এর ফলে ক্লান্তি, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা এবং অন্য ধরনের মেটাবলিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

5. বংশগত কারণ Heredity (Genetic Factors)

PCOS এর আরেকটি বড় দিক হলো জেনেটিক বা বংশগত প্রভাব। পরিবারের কারও PCOS, ডায়াবেটিস বা সব সময় অনিয়মিত পিরিয়ডের (irregular period) ইতিহাস থাকলে অন্য মহিলাদের মধ্যেও PCOS হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

তবে শুধু জেনেটিক কারণেই PCOS হয়, এমন বলা ঠিক নয়। পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক চাপ, এই ধরনের লাইফস্টাইল, সংক্রান্ত অনেক বিষয় কারণ হিসেবে কাজ করে PCOS শুরু বা বাড়িয়ে দিতে পারে।

আরও পড়ুন: PCOS-এর কী কী ধরনের আছে?

PCOS-এর কারণগুলিকে প্রভাবিত করা অতিরিক্ত কারণ

PCOS-এর প্রধান কারণগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু অতিরিক্ত কারণ আছে, যেগুলো PCOS-এর লক্ষণ কে বাড়িয়ে দিতে পারে বা ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।

অস্বাস্থ্যকর খাবার ও বসে থাকা জীবনযাপন

  • বেশি পরিমাণে রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট (যেমন ময়দা, সাদা পাউরুটি), মিষ্টি পানীয়, ও প্রসেসড খাবার খেলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আরও খারাপ হতে পারে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম না করলে ওজন দ্রুত বাড়ে এবং শরীরে যে হরমোনের ভারসাম্য খারাপ হয়ে থাকলে সেটা আরও খারাপ হয়।
  • যেসব মহিলারা PCOS-সহ সুষম খাবার খান ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করেন, তারা সাধারণত তাদের উপসর্গ অনেক ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

পরিবেশগত প্রভাব

এই ক্ষেত্রের গবেষণা এখনও চলছে, তবে মনে করা হয় যে আমাদের চারপাশের কিছু কেমিক্যাল (endocrine-disrupting chemicals বা EDCs) যেমন প্লাস্টিক, পেস্টিসাইড, কিছু প্রসাধনী ও কসমেটিক যা দেহের হরমোনের স্বাভাবিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, ফলে হরমোনের ভারসাম্য আরও নষ্ট হয়।

PCOS- এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা

থাইরয়েডের সমস্যা, মেটাবলিক সিনড্রোম, অথবা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের মতো অন্যান্য স্বাস্থ্য, সমস্যা অনেক সময় PCOS-এর উপসর্গকে বাড়িয়ে দেয় বা তার সঙ্গে ওভারল্যাপ করে। এতে করে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দুটোই আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।

এই কারণগুলো না থাকলেও কি PCOS হতে পারে?

হ্যাঁ, সব সময় স্থূলতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, বা পরিবারে PCOS-এর ইতিহাস থাকলেই যে PCOS হবে, এমন নয়। অনেক সময় রোগা মহিলাদেরও PCOS থাকতে পারে, যেখানে মূল লক্ষণ থাকে শুধু অনিয়মিত পিরিয়ড ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, কিন্তু সাধারণ PCOS causes (যেমন অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিসের ইতিহাস) থাকে না।

এই ভিন্নতা দেখায় যে PCOS একরকম নয়; এটি আসলে একটি heterogeneous condition মানে, কারণ ও উপসর্গ দুটোই বিভিন্ন রকম হতে পারে। তাই PCOS–এর চিকিৎসা সব মহিলার জন্য একরকম হওয়া উচিত নয়; বরং প্রত্যেকের শরীর, উপসর্গ ও ঝুঁকির অনুযায়ী পার্সোনালাইজড চিকিৎসা দরকার।

সঠিক চিকিৎসা না করলে কিভাবে PCOS স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে

PCOS শুধু প্রজনন–সংক্রান্ত সমস্যা নয়; চিকিৎসা না করলে এটি দীর্ঘমেয়াদে মহিলাদের সার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। PCOS কেন হচ্ছে এবং এর কারণগুলো কীভাবে কাজ করছে, তা বোঝা এবং ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যের জন্য খুব জরুরি।

চিকিৎসা না করা PCOS-এর ঝুঁকি

  • বন্ধ্যাত্ব (Infertility): বারবার ডিম্বস্ফোটন না হওয়া (chronic anovulation) খুব সাধারণভাবে বন্ধ্যাত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে। অনেক মহিলা গর্ভধারণের চেষ্টা করতে গিয়ে, টেস্ট করাতে গিয়ে প্রথম জানতে পারেন যে তাদের Polycystic Ovary Syndrome আছে।
  • টাইপ ২ ডায়াবেটিস (Type 2 Diabetes) : দীর্ঘদিন ধরে চলা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স PCOS-এর অন্যতম প্রধান ভিত্তি কারণ। এই অংশটি যদি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ না হয়, তাহলে প্রথমে প্রিডায়াবেটিস এবং পরে সম্পূর্ণরূপে Type 2 diabetes হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • গর্ভাশয়ের আস্তরণ ঘন হওয়া ও ক্যান্সারের ঝুঁকি : PCOS-এ অনেক মহিলার পিরিয়ড অনিয়মিত হয় বা অনেকদিন আসে না। পিরিয়ড না হলে জরায়ুর আস্তরণ (endometrium) শুধু ইস্ট্রোজেনের প্রভাবে বাড়তে থাকে, কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে ঝরে পড়ে না। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সেই আস্তরণ অস্বাভাবিকভাবে ঘন হয়ে যেতে পারে (endometrial hyperplasia) এবং ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • হার্ট ও রক্তনালীর ঝুঁকি (Cardiovascular Risks) : PCOS থাকা মহিলাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ (hypertension), রক্তে ফ্যাটের গড়বড় (dyslipidemia), এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। তাই সময়মতো PCOS ধরার ও চিকিৎসা করার মূল লক্ষ্য শুধু পিরিয়ড নিয়মিত করা নয়, ভবিষ্যতের হার্ট ও মেটাবলিক স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত রাখা।

শুরুর দিকেই সমস্যা বুঝে নিয়ে চিকিৎসা করার গুরুত্ব

PCOS শুরুতেই ধরা পড়লে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা অনেক সহজ হয়। সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন ঠিক রাখা, এই অভ্যাসগুলো দ্রুত ফল দেয়। প্রয়োজন হলে ডাক্তার হরমোনের ভারসাম্য ঠিক করার চিকিৎসাও দেন, যার ফলে ভবিষ্যতে গর্ভধারণ বা অন্যান্য প্রজনন সংক্রান্ত লক্ষ্য পূরণ করা সহজ হয়।

নিয়মিত ফলো-আপ ও যত্ন: PCOS একাধিক সিস্টেমকে প্রভাবিত করে, তাই শুধু একজন ডাক্তার নয়, গাইনোকোলজিস্ট, এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এবং নিউট্রিশনিস্ট, এই তিন ধরনের বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রয়োজন।

এই ধরনের মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম অ্যাপ্রোচ PCOS থাকা মহিলাদের জন্য খুব জরুরি, যাতে ঝুঁকি কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে তাদের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা যায়।

সঠিক PCOS চিকিৎসা শুধু মা হওয়ার জন্য নয়, এটা আপনার ভবিষ্যতের সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

উপসংহার

মহিলাদের শরীরে অ্যান্ড্রোজেন বেড়ে যাওয়া, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, জেনেটিক প্রবণতা এবং লাইফস্টাইল সংক্রান্ত নানা কারণ একসঙ্গে মিলেই Polycystic Ovarian Syndrome (PCOS) হয়। PCOS প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় PCOS, এ গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দেয়, এবং চিকিৎসা না হলে সন্তান ধারণ করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

সৌভাগ্যবশত, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, নিয়মিত লাইফস্টাইল–পরিবর্তন এবং সঠিক ডায়েট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে PCOS জনিত বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা অনেকটাই সফল হতে পারে।

Indira IVF সেন্টারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা করে পার্সোনালাইজড ট্রিটমেন্ট প্ল্যান তৈরি করেন এবং অ্যাডভান্সড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজি ব্যবহার করে PCOS এর কারণে গর্ভধারণে সমস্যায় ভুগছেন এমন মহিলাদের মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন: PCOD বনাম PCOS - পার্থক্য কী?

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন কি ব্রণ আর বাড়তি লোমের মতো PCOS এর লক্ষণ তৈরি করতে

 

হ্যাঁ। শরীরে অ্যান্ড্রোজেন বেশি হলে মুখে ব্রণ, মুখ, শরীরে বাড়তি লোম আর মাথার চুল পাতলা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

স্ট্রেস কি PCOS এর কারণ হতে পারে?

 

শুধু স্ট্রেস একা PCOS এর কারণ, এমন প্রমাণ নেই। কিন্তু দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে PCOS–এর উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।

শুধু হরমোনের অসামঞ্জস্য থাকলেই কি PCOS হয়?

 

PCOS–এর মূল জায়গাতেই আছে হরমোনের ভারসাম্য, কিন্তু এর সঙ্গে অনেক সময় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওজন, আর জেনেটিক কারণও জড়িত থাকে।

পরিবারের কারও না থাকলেও কি PCOS হতে পারে?

 

হ্যাঁ, পারিবারিক ইতিহাস না থাকলেও PCOS হতে পারে। পরিবারের কারও থাকলে ঝুঁকি বাড়ে, কিন্তু এটাই একমাত্র শর্ত নয়।

মহিলাদের টেস্টোস্টেরন বেশি থাকলে কি PCOS হয়?

 

মেয়েদের শরীরে টেস্টোস্টেরন খুব বেশি হলে ওভুলেশন বিগড়ে যেতে পারে, ব্রণ ও বাড়তি লোমের মতো লক্ষণ দেখা দেয় এবং PCOS ধরা পড়তে পারে।

PCOS এর কারণগুলো কি ঠিক করা বা উল্টে দেওয়া যায়?

 

অনেক ক্ষেত্রে ওজন কমানো, ভালো ডায়েট, নিয়মিত ব্যায়াম আর সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে PCOS–এর উপসর্গ যথেষ্ট কমানো ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

খাবার-দাবার PCOS এর কারণগুলোর ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে?

 

চিনি–ভর্তি, প্রসেসড খাবার আর জাঙ্ক ফুড ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ওজন বাড়িয়ে PCOS এর উপসর্গ খারাপ করতে পারে; সুষম খাবার সেটা অনেকটাই কমাতে সাহায্য করে।

ওজন বাড়া কি PCOS এর লক্ষণ, না কারণ?

 

দুটোই হতে পারে। PCOS এ ওজন সহজে বাড়ে, আবার বেশি ওজনও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়িয়ে PCOS এর ঝুঁকি বাড়ায়।

মেয়েদের হস্তমৈথুন কি PCOS করায়?

 

না। মেয়েদের হস্তমৈথুন PCOS এর কারণ নয়। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

PCOS কি গর্ভধারণে সমস্যা তৈরি করতে পারে?

 

হ্যাঁ। অনিয়মিত বা না হওয়া ওভুলেশনের কারণে অনেকের গর্ভধারণে অসুবিধা হয়, তবে সঠিক চিকিৎসা নিলে গর্ভধারণের ভালো সুযোগ থাকে।

PCOS কি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়?

 

দীর্ঘদিন অনিয়মিত বা না হওয়া পিরিয়ড থাকলে জরায়ুর আস্তরণে সমস্যা বাড়তে পারে, ফলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।

PCOS কি বারবার গর্ভপাতের কারণ হতে পারে?

 

PCOS এ হরমোনের গড়বড় ও ওভুলেশন সমস্যা থাকলে গর্ভধারণ টিকিয়ে রাখতে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে, তবে সঠিক চিকিৎসা ও নজরদারিতে ঝুঁকি কমানো যায়।

**Disclaimer: The information provided here serves as a general guide and does not constitute medical advice. We strongly advise consulting a certified fertility expert for professional assessment and personalized treatment recommendations.
© 2026 Indira IVF Hospital Limited. All Rights Reserved. T&C Apply | Privacy Policy| *Disclaimer