ওভারভিউ
Infertility meaning in Bengali সহজভাবে বললে, নিয়মিত এবং অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গর্ভধারণ না হওয়াকে ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব বলা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, সাধারণত ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পরও গর্ভধারণ না হলে ইনফার্টিলিটি সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়।
বন্ধ্যাত্ব শুধু মহিলাদের সমস্যা নয়। এর কারণ মহিলাদের, পুরুষদের, দুজনের ক্ষেত্রেই থাকতে পারে বা কখনও নির্দিষ্ট কোনও কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জীবনের কোনও না কোনও সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬ জনের মধ্যে ১ জন ইনফার্টিলিটির সমস্যার মুখোমুখি হন।
ইনফার্টিলিটির বাংলা অর্থ হল বন্ধ্যাত্ব। তবে ‘বন্ধ্যাত্ব’ শব্দটি শুনে মনে হওয়া উচিত নয় যে কোনও ব্যক্তির কখনও সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইনফার্টিলিটি হল একটি প্রজনন-সংক্রান্ত সমস্যা, যার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসার মাধ্যমে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ানো যায়।
গর্ভধারণের জন্য মহিলার ডিম্বাণু তৈরি ও বের হওয়া, পুরুষের সুস্থ শুক্রাণু, ফ্যালোপিয়ান টিউবের কার্যকারিতা, জরায়ুর উপযুক্ত পরিবেশ এবং অন্যান্য প্রজনন-সংক্রান্ত বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু একজনের শরীরকে দায়ী না করে, প্রয়োজনে দুজনেরই পরীক্ষা করা হয়।
ইনফার্টিলিটিকে সাধারণভাবে দু’ভাবে ভাগ করা হয়, প্রাইমারি ইনফার্টিলিটি এবং সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটি।
প্রাইমারি ইনফার্টিলিটি বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন আগে কখনও গর্ভধারণ হয়নি এবং নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গর্ভধারণ হচ্ছে না।
সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটি হল এমন পরিস্থিতি, যেখানে আগে অন্তত একবার গর্ভধারণ হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে আবার গর্ভধারণ করতে সমস্যা হচ্ছে। আগের গর্ভধারণ, গর্ভপাত সব ক্ষেত্রেই পরবর্তী গর্ভধারণে সমস্যাকে সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটির প্রেক্ষিতে মূল্যায়ন করা হতে পারে।
মহিলাদের ইনফার্টিলিটির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সাধারণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:
বয়সও মহিলাদের প্রজনন ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমতে থাকে। ফলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমতে পারে এবং গর্ভপাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
পুরুষদের ক্ষেত্রেও ইনফার্টিলিটির বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:
অনেক সময় পুরুষের ইনফার্টিলিটির কোনও স্পষ্ট লক্ষণ বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তাই গর্ভধারণে সমস্যা হলে শুধু মহিলার পরীক্ষা না করে পুরুষের দিকটিও মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে সবসময় আলাদা কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। অনেক দম্পতির প্রধান সমস্যা হল দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হওয়া। তবে কিছু লক্ষণ থাকলে প্রজননস্বাস্থ্যের কোনও সমস্যার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। যেমন:
এই ধরনের লক্ষণ থাকলে ১২ মাস অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বন্ধ্যাত্বের কারণ জানতে শুধু একটি পরীক্ষা করলেই সবসময় উত্তর পাওয়া যায় না। চিকিৎসক প্রথমে দম্পতির চিকিৎসার ইতিহাস, মাসিকের ধরন, পূর্বের গর্ভধারণ, যৌনস্বাস্থ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য জানতে পারেন।
মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে করা হতে পারে:
পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত বীর্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পরীক্ষাগুলির একটি। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা এবং গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ফার্টিলিটি মূল্যায়নে পুরুষ ও মহিলা, দুজনকেই সমান্তরালভাবে পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণ, কতদিন ধরে গর্ভধারণের চেষ্টা চলছে এবং উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্যের অবস্থার উপর। কারণ অনুযায়ী ওষুধ, অস্ত্রোপচার বা সহায়ক প্রজনন পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে।
কোন চিকিৎসা উপযুক্ত হবে, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা। তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা উচিত।
জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস নারী ও পুরুষ, উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এবং স্থূলতা বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। ধূমপান নারীদের ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা ও প্রজননক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পুরুষদের ক্ষেত্রেও ধূমপানের সঙ্গে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও গঠনের কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণও বিশেষ করে পুরুষদের শুক্রাণুর গুণমান ও প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে এগুলো করা উচিত:
তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সব ধরনের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করতে পারে না।
বয়স ফার্টিলিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমতে থাকে এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনাও কমে।
তাই ৩৫ বছরের কম বয়সী মহিলার ক্ষেত্রে নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পর ১২ মাসেও গর্ভধারণ না হলে সাধারণত ফার্টিলিটি মূল্যায়নের কথা ভাবা হয়। ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সে ৬ মাস চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ৪০ বছরের বেশি বয়সে আরও দ্রুত মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
তবে পরিচিত কোনও সমস্যা থাকলে বয়স বা নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই।
নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ১২ মাস চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মহিলার বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হলে ৬ মাস চেষ্টা করার পরই ফার্টিলিটি মূল্যায়ন শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৪০ বছরের বেশি হলে অপেক্ষা না করে আরও দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ৬ বা ১২ মাস অপেক্ষা না করেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেমন:
এ ধরনের পরিস্থিতিতে নারী ও পুরুষ, উভয়েরই প্রয়োজন অনুযায়ী ফার্টিলিটি মূল্যায়ন করা হতে পারে।
পুরুষের প্রজননক্ষমতার সমস্যাও ইনফার্টিলিটির কারণ হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দুজনের কারণ একসঙ্গে থাকতে পারে।
আগে গর্ভধারণের ইতিহাস থাকলেও পরবর্তীতে আবার গর্ভধারণে সমস্যা হলে তাকে সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটি বলা হয়।
এটিও ঠিক নয়। ইনফার্টিলিটির অনেক কারণের চিকিৎসা রয়েছে। কারও ক্ষেত্রে ওষুধ, কারও ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার, আবার কারও ক্ষেত্রে আইইউআই বা আইভিএফের মতো সহায়ক প্রজনন পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে।
স্ট্রেস মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু ইনফার্টিলিটির সব কারণকে শুধু স্ট্রেস দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। তাই প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার জন্য চিকিৎসা মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।